পড়ে পাওয়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
প্রশ্ন ০১. আরিফ টেক্সি ক্যাব চালিয়ে- জীবিকা নির্বায় একবার একজন আরোহীকে গন্তব্যে পৌছে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল সহসা গাড়ির ভিতরে দৃষ্টি পড়তে সে দেখতে পেল মানিব্যাগ মিটের ওপর পড়ে আছে। ব্যাগে অনেকগুলো অ কিন্তু ব্যাগে কোনো ঠিকানা পাওয়া গেল না। সে সন্ধ্যা অপেক্ষা করল। নিরুপায় হয়ে সে পত্রিকা অফিসে গিয়ে সম্পাদকরে একটি বিজ্ঞপ্তি ছাপিয়ে দেবার অনুরোধ জানায়।
১ নং প্রশ্নের উত্তর
ক. পড়ে পাওয়া' কী ধরনের রচনা?
খ. 'ওর মতো কত লোক আসবে'- বিথুর এ কথাটির অর্থ 'বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকের আরিফকে কোন যুক্তিতে বিধুর সঙ্গে
তুলনা করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের সুরকেই ধারণ করে আছে। মূল্যায়ন কর।
১নং প্রশ্নের উত্তর
ক) 'পড়ে পাওয়া রচনাটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কিশোর গল্প
খ) 'ওর মত্যে কত লোক আসবে'- বিধুর এ কথাটির অর্থ হলে লোভের বশবর্তী হয়ে বাক্সের মালিক না হয়েও অনেক লোক মালিকানা দাবি করতে আসবে।
মানুষ লোভের বশবর্তী হয়ে মিথ্যাকে সত্য করতে পারে, আয় সত্যকে মিথ্যা করতে পারে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোররা একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায় এবং সেটি প্রকৃত মালিকের হাতে বৃমাচ দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। এই বিজ্ঞপ্তি পেয়ে অজ্ঞাত এক বাই বাক্সটির মালিকানা দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে সে মালিক নয়-এ উপলব্ধি থেকেই বিধু কথাটি বলেছে।
গ) উদ্দীপকের আরিফ মানিব্যাগের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের কর পদক্ষেপ নেয় এবং বিধুরা বাক্সের প্রকৃত মালিক খোঁজার পদক্ষেপ নেউ এ দিক থেকে বিধুদের সঙ্গে উদ্দীপকের আরিফকে তুলনা করা যায়।
সততা ও সায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য। নির্লোভ মানসিকতা মানুষকে মহৎ হতে শেখায়। সততা মানুষের ঘাে শান্তি দেয়।
উদ্দীপকের আরিফ টেক্সি ক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবা একজন আরোহীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এমন সাই গাড়ির ভেতরে একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে এবং ব্যাগে অনেক ডলার দেখতে পায়। কিন্তু দে লোভের বশবর্তী না হয়ে মালভাস ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর ব্যবস্থা করে। সবা পাওয়া' গল্পের বিধুরাও টাকাভর্তি একটি বাক্স পড়ে পায়। ওরা আত প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের হে পরামর্শ করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। পড়ে পাওয়া জিনিস তার প্রকৃত মালিে কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে উদীপাতা আরিফকে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
ঘ) কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল সুরকেই ধারণ করে আছে। কথাটি যথার্থ।
অন্যের উপকার করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। আর এজন্য প্রয়োজন সততা ও নির্লোভ মানসিকতা। নির্লোভ মানসিকতার অধিকারীরাই জীবনে জয়ী হয়।
উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে নির্লোভ মানসিকতার ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। কারণ আরিফ সামান্য ট্যাক্সিচালক হয়েও অন্যের টাকায় লোভ করেনি। তাই সে প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধ, নিধ মিঠ, বাদলরাও আরিফের মতো নির্লোভ। তারাও টাকা ভর্তি বাক্স পেয়েও লোভ করেনি।
আলোচ্য গল্পের কিশোররা সৎ, বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল। তাই প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাক্সটিকে সযত্নে রক্ষা করেছে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল বিষয় সততা ও দায়িত্বশীলতা, যা উদ্দীপকের আরিফ চরিত্রের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে।উদ্দীপকের দাদু যেন 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল চেতনারই প্রতিভূ।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ০২. সন্ধ্যায় দেখা গেল, নিজেদের ছাগলের সাথে অতিরিক্ত একটি ছাগলও আথালে ঢুকছে। এশার নামাজ পার হয়ে গেল, কিন্তু কেউ খোঁজ নিতে এল না। দাদু বললেন, না, না, চুপ করে থাকা ঠিক হবে না। এক কাজ কর, রফিক-শফিক বেরিয়ে পড়। প্রতিবেশী নাবিল আর তালিমকে সাথে নিয়ে দুজন দুদিকে যেও। মসজিদ থেকে চোঙ্গা নিয়ে গাঁয়ে ঘোষণা দিয়ে আস। কিছুক্ষণের মধ্যে দু-ভাই দাদুর পরামর্শ মতো বলতে লাগল, ভাইসব, একটি ছাগল পাওয়া গেছে। যাদের ছাগল তারা দয়া করে মতিন শিকদারের বাড়ি থেকে নিয়ে যান।
ক. লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোন ধরনের লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত?
খ. 'দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।' কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. রফিক-শফিকের চোঙ্গা ফোঁকার ঘটনাটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কোন ঘটনার সাথে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের দাদু যেন 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল চেতনারই প্রতিভূ। বিশ্লেষণ কর।
২নং প্রশ্নের উত্তর
ক) লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
খ) "দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।"- কথাটি দ্বারা কিশোরদের সৎ ও নির্লোভ মানসিকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
পড়ে পাওয়া গল্পের বাদল ও গল্পকথক একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটার মধ্যে দামি কিছু আছে বলে তারা মনে করে। তাই তারা এটি ভাঙতে চায়। কিন্তু হঠাৎ তাদের মনে আসে- 'না, বাক্সটি ভাঙা ঠিক হবে না। কারণ এই বাক্সের মালিক তো তারা নয়। যে লোকের বাক্সটি সে হয়তো বাক্সের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে না।' এই কথা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয়ে যেন ধার্মিক হয়ে উঠল এবং বাক্সটির প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজতে লাগল।
গ) উদ্দীপকের রফিক ও শফিক তাদের বাড়িতে অন্য একটি ছাগল ঢুকে পড়ায় দাদুর পরামর্শ অনুযায়ী চোঙা দিয়ে পুরো গ্রামে ঘোষণা দেয় যাতে প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়। তাদের এই সততা ও দায়িত্ববোধের কারণে তারা ছাগলটি সঠিক মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে চায়।
এ ঘটনাটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বিধু, নিধু ও বাদলদের ঘটনার সাথে সংগতিপূর্ণ। কারণ সেখানেও তারা রাস্তায় পড়ে পাওয়া টাকার বাক্সের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার জন্য বিভিন্ন গাছে কাগজের লিফলেট লাগিয়েছিল। উভয় ঘটনাতেই সৎ ও নির্লোভ আচরণের মাধ্যমে হারানো জিনিসের প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
ঘ) উদ্দীপকের দাদু চরিত্রটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল চেতনার প্রতিফলন হিসেবে কাজ করেছে। কারণ তিনি রফিক ও শফিককে নির্দেশ দেন যেন ছাগলটি নিজেরা না রেখে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে মানবিকতা, নির্লোভ মানসিকতা এবং দায়িত্বশীলতার গভীর বোধ। তিনি বুঝতে পারেন যে, হারানো জিনিসের মালিক হয়তো কষ্টে আছে এবং ছাগলটি হারিয়ে তার দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হতে পারে।
একইভাবে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে বিধু, নিধু ও বাদলরা রাস্তায় পাওয়া টাকার বাক্সটি নিজেরা না রেখে সততার পরিচয় দিয়ে তার প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। তারা লিফলেট লাগিয়ে মালিককে খুঁজে বের করে বাক্সটি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে, যা তাদের নৈতিক মূল্যবোধ ও সৎ চরিত্রের পরিচয় বহন করে।
উভয় ঘটনার মধ্যে মূল সাদৃশ্য হলো—নির্লোভতা, সততা এবং দায়িত্ববোধ। দাদু যেমন সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়ে সৎ পথে চলার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তেমনি বিধুরাও একই নৈতিক চেতনার অনুসরণ করেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের দাদু চরিত্রটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল মানবিক ও নৈতিক চেতনারই প্রতিভূ। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
সৃজনশীল০৩. করিম ও রহিম দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলেন। কাউন্টারে এক লক্ষ টাকার চেক দিলে ক্যাশিয়ার সাহেব ভুলে দশ হাজার টাকা বেশি দিলেন। দুই বন্ধু বাসায় এসে দেখলেন দশ হাজার টাকা বেশি। করিম সাহেব বললেন অতিরিক্ত টাকা আমরা ফেরত দেব না। নিজেরা খরচ করব। কিন্তু রহিম সাহেব বললেন বাকি টাকা ফেরত দেব। কেননা এ অতিরক্ত টাকার জন্য ক্যাশিয়ার সাহেবের চাকরি চলে যেতে পারে। পরে দুই বন্ধু মিলে টাকাগুলি ফেরত দিলেন।
ক. 'পড়ে পাওয়া' গল্পে কে সকলের সংশয় দূর করে দিল?
খ. অম্বরপুরের কাপালিরা সর্বস্বান্ত হয়েছে কীভাবে?
গ. উদ্দীপকের করিম ও রহিম 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কাদের প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের ক্যাশিয়ার এবং 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কাপালি একই সূত্রে গাঁথা- বিশ্লেষণ কর
সৃজনশীল ০৪: একটি বেসরকারি অফিসে অফিসে উজ্জ্বল বেসরকারি অফিস সহায়কের চাকরি করে উজ্জ্বল। সে কক্ষ খুলে দিলে ভোরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাখাল প্রধান নির্বাহীর অফিস কক্ষ পরিষ্কার করে। একদিন সে বড় কর্তার রুমের বাস্কেটে দেখতে পায় টাকার বান্ডিল। প্রথমে রাখাল খুশি হলেও সে ভাবে। বড় কর্তা অসতর্কভাবে হয়তো ভুলে এটা রাখতে পারেন। রাখাল ভেবেচিন্তে বিষয়টি অফিস সহায়ক উজ্জ্বলকে জানায়। বড় কর্তা অফিসে এলে রাখাল ও উজ্জ্বল বিষয়টি তাকে জানায়
ক. পত্রপাঠ বিদায় কী?
খ. 'অধর্ম করা হবে না'- কেন?
গ. উদ্দীপকে টাকা পাওয়ার ঘটনায় 'পড়ে পাওয়া' গল্পের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. "উদ্দীপকের রাখাল ও উজ্জ্বল যেন 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোরবৃন্দ”- মূল্যায়ন কর।

