তৈলচিত্রের ভূত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
প্রশ্ন ০১. রফিক সাহেব শীতের ছুটিতে ভাগ্নি সাহানাকে নিয়ে গ্রামে বেড়াতে যান। রাতের আকাশ দেখার জন্য তারা খোলা মাঠে যান। অদূরেই দেখতে পান মাঠের মধ্যে হঠাৎ এক প্রকার আলো জ্বলে। উঠে তা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। ওটা কিসের আলো তা জানতে চাইলে সাহানার মামা বলেন, ভূতের! সাহানা ভয় পেয়ে তার মামাকে জড়িয়ে ধরে। মামা তখন তাকে বুঝিয়ে বলেন যে, খোলা মাঠের মাটিতে এক প্রকার গ্যাস থাকে- যা বাতাসের সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে। সাহানা বিষয়টা বুঝতে পেরে স্বাভাবিক হয়।
ক. 'তৈলচিত্রের ভূত' কোন জাতীয় রচনা?
খ. পরাশর ডাক্তার নগেনকে ভর্ৎসনা করলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের সাহানা আর 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেনের বিশেষ মিল কোথায়?- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. "রফিক সাহেব আর 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের পরাশর ডাক্তার উভয়কে আধুনিক মানসিকতার অধিকারী বলা যায়?"-উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
১নং প্রশ্নের উত্তর
ক) 'তৈলচিত্রের ভূত' কিশোর-উপযোগী ছোটগল্প।।
খ) অশরীরী শক্তির প্রতি অন্ধবিশ্বাসের কারণে পরাশর ডাক্তার নগেনকে ভর্ৎসনা করলেন
'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পে নগেন ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করে। মৃত ব্যক্তির আত্মা ভূতে পরিণত হয় এরকম বিশ্বাস সমাজে প্রচলিত আছে বলেই নগেন বৈদ্যুতিক শককে ভূতের কাজ বলে বিশ্বাস করেছে। পরাশর ডাক্তার নগেনের কাছে ঘটনাটি শুনে বিজ্ঞানসম্মত যুক্তিতর্কের আশ্রয়ে সমাধানের জন্য ভাবতে থাকলেন। শেষে দেখলেন যে, তৈলচিত্রটি রূপার ফ্রেমে আটকানো এবং তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে বলে এরূপ ঘটেছে। বিষয়টি তিনি নগেনকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন। নগেন বুঝতে পারল এবং তার ভূতে বিশ্বাস থাকল না। নগেরে এ ধরনের বিশ্বাস ও বোকামির জন্য তাকে পরাশর ডাক্তার ভর্ৎসনা করলেন।
গ) উদ্দীপকের সাহানা এবং 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেন উভয়ের মধ্যে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে।
মানুষ শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে বিজ্ঞানসম্মত বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারে না। তারা বংশপরম্পরায় অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে সহজে গ্রহণ করে থাকে।
'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেন মামার তৈলচিত্রকে ভূত বলে ভেবেছে। পরে তার ভুল ভেঙেছে। সেটি যে বিদ্যুতের শক তাসে বুঝেছে পরাশর ডাক্তারের কথায়। অন্যদিকে উদ্দীপকে সাহানা মাঠে হঠাৎ এক প্রকার আলো জ্বলে উঠে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে এবং মামার কথামতো বিশ্বাস করে সে আলো হচ্ছে ভূতের আলো। উদ্দীপকের সঙ্গে গল্পের বিশেষ মিলটি হলো সাহানা ও নগেন উভয়েরই ভূতে বিশ্বাস রয়েছে। ভূতের কথা মনে করে তারা উভয়েই আঁতকে উঠেছে। তারা কেউই বিজ্ঞানসম্মত চিন্তা করেনি।
ঘ) হ্যাঁ, রফিক সাহেব আর 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের পরাশর ডাক্তার উভয়কে আধুনিক মানসিকতার অধিকারী বলা যায়।
অনেক আগে মানুষ অভজ্ঞতার অন্ধকারে বসবাস করত। অনেক কিছুকেই না বুঝে ভূত বলে মনে করত। ভূতে বিশ্বাস এখন আর মানুষের নেই। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান সবচেয়ে বেশি।
উদ্দীপকে রফিক সাহেব তার ভাগনি সাহানাকে নিয়ে গ্রামে বেড়াতে যান। সেখানে সাহানা রাতের বেলা খোলা মাঠে হঠাৎ আগুন জ্বলে উঠে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে। বিষয়টি নতুন বলে সাহানা ভয় পেয়ে যায়। মামা বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখ্যা করে বুঝিয়েছেন যে, সেটি ভূতের কাজ নয়। মাটির একপ্রকার গ্যাস যা বাতাসের র্সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে। 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পে নগেন তার মামার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভৈলচিত্রের ওপর হাত রাখতে গিয়ে বিদ্যুতের শককে ভূত ভেবে ভয় পায়। পরাশর ডাক্তার বিজ্ঞানসম্মত যুক্তিতর্কের মানুষ বলে শেষে বুঝতে পারলেন যে, তৈলচিত্রটি রূপার ফ্রেমে আটকানো এবং তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে বলে এরূপ ঘটেছে। বিষয়টি তিনি নগেনকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন। নগেন বুঝতে পারল এবং তার ভূতে বিশ্বাস দূর হলো।
রফিক সাহেব ও পরাশর ডাক্তার ব্যাখ্যা দিয়ে সাহানা ও নগেনকে বোঝাতে সক্ষম হন যে ভূত বলে কিছুই নেই। তাদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় উভয়েই আধুনিক মানসিকতার অধিকারী।
সৃজনশীল প্রশ্ন০২: সদ্য বিবাহিত মনির সাহেব নতুন বাসায় উঠলে পাশের বাসার হাশেম সাহেব বললেন, "এ ঘরে ভূত আছে, রাতে নানান রকম শব্দ হয়, আপনি এ বাসায় কীভাবে থাকবেন?" এসব শুনে তিনি ভয় পেয়ে যান। রাতে ঘুমাতে গিয়ে হাশেম সাহেবের কথার সত্যতা মিলে। পরদিন কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানতে পারেন ওপরের তলায় নানা বয়সী তিনটি বাচ্চা গভীর রাত পর্যন্ত খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে। এ শব্দগুলিকেই সবাই ভূত মনে করে ভয় পেত।
ক. কিছু পয়সা বাঁচানোর জন্য পরেশ বাপের ছবিতে কী এনে ছেড়েছে?
খ. "মিথ্যা গল্প বানিয়ে তাকে শোনাবার ছেলে যে নগেন নয়"-ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের হাশেম সাহেবের সাথে 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. "উদ্দীপকের মনির সাহেব এবং 'তৈলচিত্রের ভূত' পরাশর ডাক্তার বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তি।"- বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ০৩: আবদুল চাচা এই সময় বলে, এই বাড়ির কাচারিঘরে রাজার একটি ছবি রয়েছে, দেখবেন?
হ্যাঁ, অবশ্যই।
কাচারিঘরের দিকে এগোয় অমি। দেয়ালে একটা বিরাট তৈলচিত্র। একটু আগে যে আইসক্রিম'অলার সঙ্গে অমি কথা বলছিল হুবহু সেই চেহারা। শুধু ছবির লোকটার পরনে রাজকীয় পোশাক।
ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় মারা যান?
খ. নগেন মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করতে গেল কেন? বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকের দেয়ালের 'তৈলচিত্রের সঙ্গে 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের কোন বিষয়টির সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. "সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের সমগ্র ভাব ফুটিয়ে তুলতে পারেনি।"- মন্তব্যটি বিচার কর

