সুখী মানুষ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর
প্রশ্ন ০১: জোবেদ আলী ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য। এই নিয়ে টানা পঞ্চম বারের মতো তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেন।। হবেনই বা না কেন? এলাকার মানুষের অসুখ-বিসুখ হলে সুস্থ না। হওয়া অবধি তিনি তার শয্যা ছাড়েন না। সমস্যায় পড়লে সমাধান। নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার মুখে অন্ন রোচে না। সেই তার অসুখ। হলে গাঁয়ের লোক ভেঙে পড়ল। চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে প্রার্থনা করল- আল্লাহ, তুমি আমাদের জোবেদ ভাইকে সুস্থ করে দাও।
ক. আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে যাঁরা চিকিৎসা করেন তাঁদের কী বলে?
খ. হাসু মোড়লের মৃত্যুকামনা করে কেন?
গ. জোবেদ আলীর সঙ্গে 'সুখী মানুষে'র যে মিল আছে তা ব্যাখ্যা। কর।
ঘ. 'মোড়ল যদি জোবেদ আলীর মতো হতেন তাহলে তার চিকিৎসার জন্য সুখী মানুষের জামা তালাশ করতে হতো। না।'- বিশ্লেষণ কর।
১নং প্রশ্নের উত্তর
ক) আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে যারা চিকিৎসা করেন তাদের কবিরাজ বলে।
খ) অন্যায়ভাবে হাসুর ও সুবর্ণপুর গ্রামের মানুষের কাছ থেকে সম্পদ লুট করে ধনী হওয়ার কারণে হাসু মোড়লের মৃত্যুকামনা করে।
'সুখী মানুষ' নাটিকায় মোড়ল চরিত্রটির কাজ হলো অন্যের জিনিস লুট করা, ঠকানো, সবকিছু জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া ইত্যাদি। মোড়ল একজন অত্যাচারী। মানুষের কান্না দেখে মোড়ল হাসে। আর হাসু চরিত্রটি সৎ ও সাহসী। অন্যায়কারীর শাস্তি প্রত্যাশায় সে মোড়লের মৃত্যু কামনা করে।
গ) উদ্দীপকের জোবেদ আলী অন্যের উপকার করে সবার ভালোবাসা অর্জন করেছেন। এলাকার মানুষ অসুস্থ হলে তিনি তাদের সেবা করেন এবং সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চিন্তিত থাকেন। তাই গ্রামের মানুষও তাকে অনেক ভালোবাসে ও তার সুস্থতার জন্য দোয়া করে। অন্যদিকে, ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সুখী মানুষটি অল্পে সন্তুষ্ট থেকে শান্তিতে জীবনযাপন করে। তার কোনো লোভ, দ্বন্দ্ব বা দুশ্চিন্তা নেই বলে সে মানসিকভাবে সুখী। উভয়ের মধ্যেই মানসিক শান্তি, মানবিকতা ও সুখে থাকার দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ) ‘মোড়ল যদি জোবেদ আলীর মতো হতেন তাহলে তার চিকিৎসার জন্য সুখী মানুষের জামা তালাশ করতে হতো না।’— উক্তিটি যথার্থ। কারণ প্রকৃত সুখ অর্থ-সম্পদে নয়, বরং মানুষের ভালোবাসা ও সৎকর্মের মধ্যে নিহিত।
উদ্দীপকের জোবেদ আলী ছিলেন একজন সৎ, দয়ালু ও জনদরদি মানুষ। তিনি এলাকার অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এবং তাদের সেবা করেই আনন্দ পেতেন। তাই গ্রামের মানুষও তাকে অনেক ভালোবাসত ও তার সুস্থতার জন্য দোয়া করত। মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাই তাকে প্রকৃত সুখী মানুষে পরিণত করেছে।
অন্যদিকে, ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল ছিল লোভী ও অত্যাচারী। সে মানুষের ক্ষতি করত এবং অন্যের কষ্টে আনন্দ পেত। ফলে অনেক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তার মনে শান্তি ছিল না। তাই বলা যায়, যদি মোড়ল জোবেদ আলীর মতো ভালো ও মানবসেবী মানুষ হতো, তাহলে তাকে সুখ খুঁজতে হতো না। এজন্য উক্তিটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ০২ : সেলিম সাহেব নানা উপায়ে নানা পন্থায় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। নদীর পাড় ভেঙে পড়ার মতো ইদানীং বিভিন্ন অজুহাতে সেই পাহাড়ের বিরাট বিরাট অংশ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। রাতে দুশ্চিন্তায় ঘুম হয় না। তার মনে হচ্ছে যাকে তিনি এক সময় সুখের উৎস ভেবেছিলেন তাই হয়ে উঠেছে এখন অসুখের মূল কারণ। ভাঙন যেভাবে লেগেছে তাতে বোঝা যাচ্ছে পাপের ধন প্রায়শ্চিত্তেই যাবে।
ক. নাট্যকার মমতাজউদদীন আহমদের পেশাগত পরিচয় কী?
খ. হাসু মোড়লের আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তার অকল্যাণ কামনা। করে কেন?
গ. মোড়ল চরিত্রের সঙ্গে সেলিম সাহেবের চরিত্রের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
ঘ. 'মোড়ল আর সেলিম সাহেবের অসুখের মূল কারণ অভিন্ন সূত্রে গাঁথা।'- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
২নং প্রশ্নের উত্তর
ক) নাট্যকার মমতাজউদ্দীন আহমদ-এর পেশাগত পরিচয় হচ্ছে তিনি একজন শিক্ষক ও বিখ্যাত অভিনেতা।
খ) মোড়ল জোর করে হাসুর মুরগি জবাই করে খাওয়ার কারণে সম্পর্কে মোড়লের আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তার অকল্যাণ কামনা করে।
'সুখী' মানুষ নাটিকায় মোড়ল একজন লোভী অত্যাচারী লোক। সে অন্যের জিনিসে লোভ করে। আপসে ওই জিনিস না পেলে সে জোর করে আদায় করে নেয়। হাসু মোড়লের আত্মীয়। সম্পর্কে ফুপাত ভাই। তাকেও সে তার অত্যাচার থেকে নিস্তার দেয়নি। লোভী মোড়ল জোর করে হাসুর মুরগি জবাই করে খেয়ে ফেলেছে। মোড়লের অত্যাচারে বিরক্ত হয়ে হাসু তাই তার অকল্যাণ কামনা
গ) মোড়লের চরিত্রের সাথে উদ্দীপকের সেলিম সাহেবের চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
অনেক মানুষ অসৎ উপায়ে বিপুল সম্পদের মালিক হলেও প্রকৃত সুখ লাভ করতে পারে না। অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ একসময় তাদের দুশ্চিন্তা ও অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে তারা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল অনেক ধন-সম্পদের মালিক ছিলেন, যা তিনি অন্যায়ভাবে অর্জন করেছিলেন। তিনি মনে করতেন ধন-সম্পদ থাকলেই মানুষ সুখী হয়। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন যে অর্থ-সম্পদ সবসময় মানুষকে সুখ দিতে পারে না। তার চিকিৎসার জন্য সুখী মানুষের জামা খুঁজতে হয়েছিল, যা তার অসহায় অবস্থাকে প্রকাশ করে।
উদ্দীপকের সেলিম সাহেবও অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন। সেই সম্পদই ধীরে ধীরে তার দুশ্চিন্তা ও অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বলা যায়, সেলিম সাহেবের চরিত্রের সাথে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল চরিত্রের যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ) ‘মোড়ল আর সেলিম সাহেবের অসুখের মূল কারণ অভিন্ন সূত্রে গাঁথা’— কথাটি যথার্থ।
অন্যায় ও অসৎভাবে উপার্জিত অর্থ কখনো মানুষের প্রকৃত সুখ নিশ্চিত করতে পারে না। বরং এসব কাজ মানুষের জীবনে অশান্তি ও দুশ্চিন্তা ডেকে আনে। উদ্দীপকের সেলিম সাহেব অসৎ পথে অনেক সম্পদ অর্জন করেছিলেন। তিনি মনে করতেন সম্পদই তাকে সুখী করবে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই সম্পদ নষ্ট হতে থাকলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে যান।
একইভাবে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লও ছিলেন লোভী ও অত্যাচারী। তিনি অন্যের সম্পদ দখল করে নিজের সুখ খুঁজতেন। কিন্তু মানুষের কষ্ট ও অভিশাপের কারণে তিনি একসময় কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। ফলে তার ধন-সম্পদ কোনো কাজে আসেনি।
তাই বলা যায়, উভয়ের অসুখের মূল কারণ ছিল লোভ, অন্যায় ও অসৎভাবে সম্পদ অর্জনের মানসিক অশান্তি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ০৩: একটি অফিসে কর্মরত জনৈক মি. হাসেম আলী বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন পন্থায় এখন অঢেল সম্পত্তির মালিক। পাহাড় ধসে পড়ার মতো ইদানীং নানা ঘটনায় সেই অঢেল সম্পত্তির বিশাল বিশাল অংশ হাতছাড়া প্রায়। দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না। হাসেম আলীর মনে হচ্ছে, যে সম্পত্তিকে তিনি একসময় সকল সুখের আশ্রয় ভেবেছিলেন তাই হয়ে উঠেছে এখন অসুখের মূল কারণ। ধস যেভাবে শুরু হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে পাপের ধন প্রায়শ্চিত্তেই যাবে।
ক. 'সুখী মানুষ' নাটিকায় মোট চরিত্র সংখ্যা কতটি?
খ. কীভাবে মোড়লের হাড় মড়মড় রোগ ভালো হবে?- ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের মি. হাসেম আলী চরিত্রের সাথে 'সুখী মানুষ' নাটিকার কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকটি 'সুখী মানুষ' নাটিকার বিষয়বস্তুকে সম্পূর্ণরূপে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে কি? মতামত দাও।

