ভাব ও কাজ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
প্রশ্ন ১. তুমি স্বপ্নে রাজা হতে পার, কোটি কোটি টাকা, বাড়ি-গাড়ির মালিক হতে পার। কল্পলোকের সুন্দর গল্পও হতে পার, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন এক জগৎ। এখানে বড় হতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। শিক্ষার দ্বারা নিজের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করে সঠিক কর্মানুশীলনের মাধ্যমে বড় হতে হবে। সুতরাং কল্পনার জগতে হাবু-ডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক।
ক. যিনি ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনসাধারণকে নাচাবেন তাকে কেমন হতে হবে?
খ. লেখক 'স্পিরিট' বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকটি 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের যে দিকটি নির্দেশ করে তা বর্ণনা কর।
ঘ. কল্পনার জগতে হাবু-ডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক' মন্তব্যটি 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন কর।. ১নং প্রশ্নের উত্তর
১ নং প্রশ্নের উত্তর
ক) যিনি ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনসাধারণকে নাচাবেন তাঁকে নিঃস্বার্থ ত্যাগী ঋষি হতে হবে।
খ) মানুষের মুক্তি ও উন্নতি সাধনের জন্য লেখক 'স্পিরিট' বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন।
একটি দেশের সার্বিক কল্যাণ সাধনে তরুণরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের মুক্তি, উন্নতি ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে তরুণরাই ভরসার স্থল। যুগে যুগে এদেশের যত অর্জন হয়েছে সেগুলো তাদের তারুণ্যের, চেতনার পথ ধরেই হয়েছে। তারা আত্মসচেতন হলে সমস্ত অন্যায়, অবিচার, নীচতা-হীনতা দূর হয়, সত্য-সুন্দর ও ন্যায়ের পথ সুগম হয়। এর জন্য অবশ্য প্রয়োজন হয় আত্মার শক্তি। এসব কারণে লেখক তরুণদের মধ্যে স্পিরিট বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন।
গ) উদ্দীপকটি 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের ভাবের দাসত্ব না করে 'ভাব'কে কাজের দাসরূপে নিয়োগ করার দিকটি নির্দেশ করে।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। পরিশ্রম না করে কেউ উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে না। বাঙালির অনগ্রসরতার মূলে রয়েছে তাদের শ্রমবিমুখতা। তারা ভাবের দাসত্বে চেতনাহীন। কাজের সঙ্গে তাদের ভাবের সমন্বয় ঘটে না।
উদ্দীপকে ভাবকল্পনা এবং কর্মের বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে শুধু ভাব দিয়ে যে উন্নতি সম্ভব নয় সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমে নিজের সৃজনীশক্তির বিকাশ ঘটিয়ে কর্মানুশীলনের মাধ্যমে নিজের, দেশ ও জাতির কল্যাণের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি আলোচ্য 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের আলোচিত বিষয়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সেখানে লেখক
এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে দেশ ও জাতির মুক্তি ও উন্নতির কথা বলেছেন। লেখক বলেছেন, 'ভাব'কে কার্যের দাসরূপে নিয়োগ করিতে না পারিলে ভাবের কোনো সার্থকতাই থাকে না।" উদ্দীপকেও এর সমর্থন পাওয়া যায়।
ঘ) "কল্পনার জগতে হাবু-ডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক" মন্তব্যটি 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।
বাঙালি শ্রমবিমুখ বলে পৃথিবীর বহু জাতি থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। তাদের মনে ভাবকল্পনার শেষ নেই। আর সেই কারণেই জীবনের অশেষ কাজ পেছনে পড়ে থাকে। যা তাদের জীবনের উন্নতি ও অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে প্রতিফলিত ভাবের দাসত্ব না করে কাজে অগ্রসর হয়ে 'ভাব'কে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। শুধু স্বপ্ন ও কল্পনায় বিভোর থাকলে জীবনে উন্নত
করা সম্ভব নয়। ভাবকে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে না পারলে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে শুধু ভাব দিয়ে যে কিছুই অর্জন করা যায় না সেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দেশ ও জাতির উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য কর্মশক্তি এবং সঠিক উদ্যোগের দরকার হয়। ভাবের মাধ্যমে মানুষকে জাগিয়ে তোলা যায়, কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা ও কাজের স্পৃহা ছাড়া যেকোনো ভালো উদ্যোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে শুধু ভাবের উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত না হয়ে, ভাবের সঙ্গে পরিকল্পিত কর্মশক্তি ও বাস্তব উদ্যোগের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভাব বিষয়টি মূলত আবেগনির্ভর। তাই শুধু ভাব বা আবেগ দিয়ে কাজ সম্পাদিত হয় না। কাজের জন্য এর যথার্থ প্রয়োগ আবশ্যক। কাজেই সার্বিক মুক্তি, উন্নতি ও কল্যাণের জন্য ভাব-কল্পনার সঙ্গে কাজের সমন্বয় সাধন করতে হয়।

