এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর
প্রশ্ন ১: অহিংসার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় গণতন্ত্র- যেখানে সবারই সমান স্বাধীনতা থাকে। যেখানে প্রত্যেকেই হবে তার জগৎ-নিয়ন্তা। এটাই সেই গণতন্ত্র যাতে আপনাদের আজ অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানাচ্ছি। একদিন আপনারা বুঝতে পারবেন, হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে পার্থক্য ভুলে যাওয়া এবং আপনারা আপনাদের শুধু মানুষ মনে করবেন এবং সবাই একত্র হয়ে স্বাধীনতার আন্দোলনে ব্রতী হবেন।
ক. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম কত তারিখে?
খ. 'বাংলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস'- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে মহাত্মা গান্ধীর ভাষণে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকটি 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' ভাষণের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করে- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
১নং প্রশ্নের উত্তর
ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই মার্চ।
খ) বাংলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস' বলতে বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে রক্তদান ও আত্মদানকে বোঝানো হয়েছে।
'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' রচনাটিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদান, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর গুলি, ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ১৯৭০-এর নির্বাচন আন্দোলনের এ ধারাবাহিকতাকে নির্দেশ করা হয়েছে। বাঙালিরা যুগে যুগে রক্ত দিয়ে তাদের অধিকার অর্জন করেছে। ন্যায্য দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে উল্লিখিত উক্তিটিতে বাঙালির ঐতিহ্যগত আন্দোলনের ধারা ও ত্যাগকে বোঝানো হয়েছে।
গ) উদ্দীপকে মহাত্মা গান্ধীর ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা হলো, অধিকার আদায়ে সমষ্টিগত আন্দোলন।
যেকোনো জাতির মুক্তি ও উন্নতির মূলে রয়েছে সঠিক নেতৃত্ব। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক নেতার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যারা দেশ ও দেশের মানুষের মুক্তি, উন্নতি ও কল্যাণের জন্য যথার্থ নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বাঙালির অধিকার ও স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে সোচ্চার ছিলেন। এজন্যই তিনি বাঙালির বন্ধু, প্রাণের মানুষ হয়েছিলেন। উদ্দীপকে মহাত্মা গান্ধীও সাধারণ মানুষের অধিকারের সংগ্রামে ছিলেন আপসহীন। এ কারণে সবাই তাঁকে সমর্থন করেছিল। উভয় নেতাই অন্যায়ের প্রতিবাদী: গণমানুষের স্বার্থরক্ষায় তৎপর এবং জনগণকে ন্যায় ও সংগ্রামের পথে উদ্বুদ্ধ করেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মহাত্মা গান্ধীর মতোই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণেও অসাম্প্রদায়িক চেতনা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সংগ্রাম করার নির্দেশ রয়েছে।
ঘ) স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। মানুষ কখনোই পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতে চায় না। বাঙালি জাতিও দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি শাসনের অধীনে নিপীড়িত অবস্থায় ছিল এবং তারা মুক্তির স্বপ্ন দেখছিল। এ অবস্থায় ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন এবং “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” ঘোষণা করেন। এই ভাষণের মাধ্যমে তিনি বাঙালি জাতিকে চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রস্তুত হতে আহ্বান জানান।
এই ভাষণ শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না, বরং এটি ছিল একটি জাতিকে জাগিয়ে তোলার শক্তিশালী আহ্বান। এর ফলে ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত হয়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
অন্যদিকে উদ্দীপকে মূলত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও একতার কথা বলা হয়েছে। যদিও এতে সংগ্রামী মনোভাবের ইঙ্গিত আছে, তবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মতো পূর্ণ স্বাধীনতার আহ্বান, মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি ডাক এবং জাতিকে সশস্ত্র সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়টি সেখানে অনুপস্থিত।
সুতরাং, উদ্দীপকটি “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” ভাষণের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করে—এ মন্তব্যটি যথার্থ নয়

